আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভিন্নধর্মী কিছু করার লক্ষ্য থেকেই পথচলা শুরু শিশিরের ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’

Sharing is caring!

ভিন্নধর্মী কিছু করার লক্ষ্য থেকেই পথচলা শুরু শিশিরের ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’

বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের দিকে তাকালে একটা জিনিস খুবই লক্ষণীয় যে তারা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং একই সাথে সৃজনশীল। শিক্ষা এবং তারুণ্যের সমন্বয় আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে করে তুলেছে আত্মপ্রত্যয়ী এবং অপ্রতিরোধ্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান, পৃথিবীর বেশির ভাগ উন্নত রাষ্ট্র তা এখনো পায়নি। এ দিকটি থেকে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ যে একদিন তার লক্ষ্য পূরণে উদ্যোগী তরুণদের নেতৃত্বে পৃথিবীতে নিজের অবস্থানকে নব আলোয় উদ্ভাসিত করবে এই ব্যাপারে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়। নিত্যনতুন চিন্তা নিয়ে এই তরুণ সমাজ হয়ে উঠছে এক একজন সাহসী এবং সফল উদ্যোক্তা। দেশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে এমন সব স্টার্টআপ যা কিছু বছর পূর্বে চিন্তা ও করেনি মানুষ। একটি নতুন চিন্তাই পারে আপনার জীবনকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে। সে জন্য চাই অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য যা আপনার আইডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেবে। তবে অবশ্যই শুধু আইডিয়া দিয়ে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। এটি বন্ধুর পথকে কিছুটা মসৃণ করবে কিন্তু সেই পথ চলতে হলে আরও অনেক কিছুর সংমিশ্রণ লাগবে। নিজের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কাজের প্রতি একাগ্রতা, আবেগ থাকতে হবে। ব্যর্থতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পুনরায় সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। তেমন ই একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা হুরাইরা শিশির তৈরি করেছেন বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার বাংলাদেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল’। একই সঙ্গে তিনি ডিজিটাল প্লাটফর্মে ম্যাট্রিমনিয়াল সম্পর্কিত প্রথম উদ্যোক্তাও বটে। আজকে আমরা শুনব শিশিরের সফল উদ্যোক্তা হওয়ার আদ্যোপান্ত। তরুণ উদ্যোক্তা হুরাইরা শিশিরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানীর ঢাকাতেই। আদমজী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মাস্টার্স করেন ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৮ সাল থেকেই ভিন্ন কিছু করার লক্ষ্য থেকেই পথচলা শুরু করে হুরাইরা শিশিরের বাটারফ্লাই ম্যাটিমনিয়াল। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই মূলত এই মহৎ পেশায় আসার চিন্তা করেন তিনি। তাছাড়া তিনি বলেন আমার মা ছাড়া আমার অস্তিত্ব নাই। আমার মেয়ে ছাড়া আমার বেঁচে থাকার মানে নাই আমার মা ই আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণা। এই পেশার আসার কারণ বিস্তারিত জানতে চাইলে হুরাইরা শিশির বলেন, ‘বিয়ে প্রত্যেক মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সবার জীবনেই বিয়ে খুব আবেগময় আর স্মৃতিময় একটা ঘটনা যার রেশ থেকে যায় সারাজীবন। এই দিনের অনুভূতি অন্যসব দিনের চেয়ে আলাদা। ব্যক্তি জীবনকে পরিপূর্ণ করার মানুষের বিয়ের প্রয়োজন আছে। তিনি আরো বলেন আমরা সবাই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিই। সবাই মোটামোটি কমবেশি পড়াশোনা করি। কিন্তু বিয়ে নিয়ে কারোর কোনো প্রস্তুতি নেই। তবে বিয়ের আগে অবশ্যই মানসিক প্রস্তুতি রাখা উচিত। আমি একটি নতুন পরিবারে যাব বা অন্য একটি মানুষ আমার পরিবারে নতুন সদস্য হয়ে আসবে। তার সঙ্গে নিজেকে কেমন করে মানিয়ে নিব সেগুলো আগে থেকেই চিন্তা ভাবনা করা উচিত। একটা মানুষকে কিভাবে আমার জীবনে স্বাগত জানাব, তা আগেই ঠিক করে রাখা ভালো। সমাজে বিভিন্ন পেশার, নানা মতের, নানা রকমের মানুষ আছে। যাদের পছন্দ নানা রকমের হয়ে থাকে। সবার পছন্দ এক নয়, সবার মাঝেই ভিন্নতা থাকে আর আমরা আমরা মূলত তাদের পছন্দের মিল বন্ধনের মাধ্যমেই তাদের মনের মত মানুষটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে থাকি। কাজ করতে গিয়ে পরিবারের বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরণের বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে শিশির বলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে প্রতিনিয়ত বাঁধা আসবেই। আর সেই বাধাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের সবাইকে। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের কাজ করতে গেলে সমস্যা একটু বেশিই হয়। আর্থিক সমস্যা এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমাদের কাজটি ডিজিটালভাবে নতুন হওয়ায়, একদম শুরু থেকেই সব কিছু নিজে নিজে করতে হয়েছে। যার জন্য সময়টাও অন্যান্য কিছু থেকে বেশি লেগেছে। পরিবার থেকে বাধা আসা খুবই সাধারণ বিষয় কারণ ভালোবাসা আর ভয় দুটোই বেশি। নতুন কাজে নিত্য নতুন বাঁধা আসবে সব মিলিযে এটাই স্বাভাবিক। স্টার্টআপ বিজনেস নিয়ে কথা বলার সময় উনাকে স্টার্টআপ বিজনেসের চ্যালেঞ্জ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে উনি বলেন স্টার্টআপ বিজনেসে প্রচুর চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। প্রথমত কাজ জানা না থাকার কারণে বিভিন্ন মানুষ নানাভাবে ঠকানোর চেষ্টা করে প্রতিনিয়ত, এছাড়াও কিছু মানুষের ভ্রান্ত প্রত্যাশা একজন উদ্যোক্তাকে নাজেহাল করে দিতে পারে। তাছাড়া টাকা পয়সার সঠিক হিসেব রাখাটা প্রয়োজন এর জন্য বাজেট মেকিং অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া ব্যার্থ হওয়ার ভয় তো আছেই। তরুণদের চাকরি করতে, নাকি উদ্যোক্তা হতে বলবেন? জানতে চাইলে শিশির বলেন উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক ধৈর্য থাকতে হবে, হুট করেই স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করে দেয়া উচিত নয়। প্রথমেই কিছু কাজ করে নেয়া উচিত, কেননা যেকোনো স্টার্টআপ বিজনেসে কমিউনিকেশন টা অনেক বড় একটা ব্যপার, তাছাড়া পূর্ব অভিজ্ঞতার ও একটা ব্যাপার রয়েছে। অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে সাথে হয়ে যায়। টিমওয়ার্ক এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যেকনোনো স্টার্টআপে, তাই সঠিক ভাবে টিমওয়ার্ক না করতে পারলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল নামকরণের কারণ জানতে চাইলে হুরাইরা শিশির বলেন, ‘বাটারফ্লাই নামটি আমার নিজের পছন্দেই দেওয়া। গ্রাম অঞ্চলে একটা কথা প্রচলিত আছে, গায়ে যদি প্রজাপতি বসে, তাহলে তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়। আর প্রজাপতি দেখতে খুবই সুন্দর। আর তাদের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রং। এক কথায় বলতে গেলে বর্ণময়। আমরা প্রায় ই দেখি বিয়ের সময় যদি মিসম্যাচিং বিয়ে হয়, তাহলে বর-কনে তাদের বাকি জীবন এর ভোগান্তি সহ্য করতে হয়। যাতে এরকম না হয় এবং সবাই সবার কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে খুঁজে পেতে পারে মূলত সেই চিন্তা থেকেই এই নাম দেওয়া।’ নিজের কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল তৈরি করেন শিশির। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল একদিন অনেক বড় হবে,এর মাধ্যমে হবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান। আর সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে দিয়ে মানুষের জীবনকে প্রজাপতির মত রঙ্গিন করবে, নতুন মানুষকে ভালোবাসতে শিখাবে। নতুন করে বাঁচতে শিখাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
Oporadh Bichitra